১২০ কোটি মানুষের দেশ ভারত । দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দাবী দেশটি
‘পুরোদস্তুর’ ডিজিটাল। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাবীর বিপরিতে সত্যতার
প্রমাণ মেলেনা খুব একটা। বরং বিশ্বের অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে এখানকার
বিশাল জনগোষ্ঠী। ভয়াবহ সব কুসংস্কারের পর্যদুস্ত কিছু মানুষের ‘অদ্ভুত’ সব
কান্ড গনমাধ্যমে শিরোনাম হয় প্রতিনিয়ত।
মাত্র কদিন আগেই ‘ অর্থ
পাওয়ার লোভে নিজের নাবালিকা মেয়েকে বলি দিতেও পিছপা হয়নি এক বাবা মা। শুধু
তাই নয়, ধর্মীয় আচরণের দোহাই দিয়ে হত্যার পরে মৃতদেহের উপর চালানো হয়
পাশবিক অত্যাচার। আর সবটাই বাবা মায়ের চোখের সামনেই। এমনই নারকীয় ঘটনার
সাক্ষী হয়ে থাকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কনৌজ শহর।
এবার চাউর হলো আরও একটি কুসংস্কারের প্রভাবে ভয়াবহ কান্ড ঘটানোর খবর!
ভারতের
পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বলছে, গত পরশু রাতে ‘অদৃশ্য’ কেও একজন এসে নাকি
কানে কানে বলে গিয়েছিলো ‘নিজের শিশুকন্যাকে প্রচন্ড যন্ত্রণা দিতে হবে !
নইলে সোজা নরকবাস হবে’ । সেই ‘অদৃশ্য নির্দেশ’ আর কেও নয় স্বয়ং কোন
‘দেবতাই’ নাকি দিয়েছেন এমনটাই দাবী ছিল এক বাবার। বিষয়টি নিয়ে পরামর্শও চলে
স্ত্রীর সাথে। তবে স্ত্রী মোটেও ভাবেননি এমন অঘটন ঘটাতে পারবেন তার
স্বামী। দুদিন ভীষণ অস্থিরতায় কাটানোর পর গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘ সেই
অদৃশ্য দেবতার নির্দেশ’ মানতেই নাকি নিজের তিনবছরের শিশুকন্যার দুইটি
কানই নৃশঙ্গস কায়দায় কেটে ফেলেছে সেই পাষণ্ড বাবা!
ঘটনাটি ঘটেছে গত
বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লির পূর্বদিকে, শাহাদরা এলাকায়।
অভিযুক্ত পাষণ্ড পিতা অমৃত বাহাদুরকে ইতমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ক্ষতবিক্ষত শিশুটির চিকিৎসা চলছে দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে। কেটে
যাওয়া কান দুটি সংরক্ষণ করে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ
জানিয়েছে, সে জানিয়েছে, গত বুধবার রাত ২টা নাগাদ ‘দেবতা’ এসে তাকে
নির্দেশ দেয় নিজের মেয়ে বীনাকে প্রচন্ড শাস্তি দিয়ে কাঁদাতে না পারলে শয়তান
এসে তাকে নরকে নিয়ে যাবে’। তাই এই কাজ করেছে সে। অমৃতের স্ত্রী ও
প্রতিবেশীদের বক্তব্যমতে, সময়মতো প্রতিবেশীরা এসে তাকে ধরে না ফেললে
শিশুটির গলাই কেটে ফেলত অমৃত।
বিস্তারিত ভিডিওতে
